মহানগর বার্তারাজ্য বার্তা

শিশু মৃত্যুতে তুলকালাম বেহালা, বড় অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে

নিউজ ডেস্ক: পথ দুর্ঘটনায় ছোট্ট পড়ুয়ার মৃত্যুতে রণক্ষেত্র বেহালা। ট্রাফিক সামলানোর গাফিলতির পাশাপাশি বড় অভিযোগ উঠছে পুলিশের বিরুদ্ধে। উত্তেজিত জনতাকে হটাতে বড়িশা হাইস্কুলের ভিতরেও কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটানো অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে।

জানা গিয়েছে এর জেরে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন স্কুলের ছোট্ট ছোট্ট পড়ুয়ারা। এই কাণ্ডে আরও বেশি করে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বাসিন্দারা।একইসঙ্গে অভিযোগ অবরোধকারী জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে লাঠি হাতে স্কুল কম্পাউন্ডেও ঢুকে পড়ে পুলিশ। প্রধানশিক্ষক সহ শিক্ষকেরা বেরিয়ে এসে কথা বলেন পুলিশের সঙ্গে। এমনকি অভিভাবকদের সঙ্গে বচসা বেধে যায় র‌্যাফের। প্রথমে স্কুল ক্যাম্পাস থেকে কাউকে বেরতেই দেওয়া হচ্ছিল না। পরে পড়ুয়াদের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন অভিভাবক ও শিক্ষকেরা। তখন পড়ুয়াদের স্কুলের পিছনের গেট দিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে বেরতে দেওয়া হয়। দেখা যায় নাকে রুমাল চাপা দিয়ে স্কুল থেকে বেরিয়ে আসছেন পড়ুয়ারা।

এই ঘটনায় তৃণমূল এবং পুলিশকে নিশানা করে শুভেন্দুর অভিযোগ, ‘তৃণমূলের সরকার পুলিশ ব্যবস্থাকেই ধ্বংস করে দিয়েছে। বৃষ্টি হলে রাস্তায় পুলিশ থাকে না। রাত আটটার পরও পুলিশের দেখা যায় না। পুলিশের কাজ তৃণমূলের হয়ে ভোট লুঠ করা, আর রাস্তা থেকে টাকা তোলা। যার পরিণতিতে সাত বছরের ফুটফুটে বাচ্চার মৃত্যুর ঘটনা।’ এজন্য এসআই বা নীচুতলার পুলিশ কর্মীরা দায়ী নন বলেও দাবি বিরোধী দলনেতার। তাঁর মতে, ‘এজন্য দায়ী আইপিএস এবং ইন্সপেক্টররা।’

দুর্ঘটনার পর ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক প্রকাশ্যে বুকভাঙা কান্নায় ভেঙে পড়ে অভিযোগ করছেন, তাঁর স্কুলের পাশেই অবস্থিত অন্য দু’টি বেসরকারি স্কুলের কাছে ট্র্যাফিক পুলিশ থাকলেও এই সরকারি স্কুলের সামনে বারবার বলা সত্ত্বেও ট্র্যাফিক পুলিশের সাহায্য মেলেনি। এই প্রসঙ্গেই এদিন ফিরহাদের ব্যাখ্যা, “বেসরকারি স্কুলে ভিড় বেশি হয় বলে পুলিশ থাকে। সেখানে গাড়ি বেশি আসছে। তাই ট্র্যাফিক পুলিশ থাকে।”

পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবকদের একাংশ। ক্ষোভে ফেটে পড়ে তাঁরা বলছেন, “ এটা একটা কথা? যে স্কুলে গাড়ি নিয়ে যায় ছাত্ররা, তাঁদের প্রাণের দাম আছে, এই স্কুলে যে এলাকার নিম্নবিত্ত-নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের হাজার খানেক বাচ্চা পড়ে, তাদের প্রাণের দাম নেই?”

তাঁদের মতে, নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে সরকার ভুল ব্যাখ্যা সামনে আনছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *