পলিটিক্সরাজ্য বার্তা

শাহজাহানের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়ে আক্রান্ত ইডি, সন্দেশখালির কে এই শাহজাহান

নিউজ ডেস্ক: রেশন দুর্নীতির তদন্তে গিয়ে আক্রান্ত ইডি আধিকারিকরা। শুক্রবার সকালে ইডি হানা দিয়েছিল সন্দেশখালির তৃণমূল নেতার বাড়িতে। ইডি-কে বাধা দিতে তুমুল বিক্ষোভ দেখান নেতার অনুগামীদের।

সেই সময় বাড়ি তালাবন্ধ ছিল। অনেক ক্ষণ ডাকাডাকির পরেও কারও সাড়া মেলেনি। প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষার পর সেই বাড়ির তালা ভাঙার চেষ্টা করেন ইডির তদন্তকারী আধিকারিকরা। সেই সময়েই বেশ কয়েক জন স্থানীয় ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান। তাঁরা নিজেদের তৃণমূল নেতার অনুগামী পরিচয় দিয়ে ইডি আধিকারিকদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।

ইডি-র গাড়িতে চলে বেপরোয়া ভাঙচুর। ইট-বাঁশের আঘাতে মাথা ফাটে দুই কর্তার। ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর দুটি গাড়িতেও। গুরুতর আহত হয়েছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। গোটা ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এলাকায় উত্তেজনা।

তবে এত কিছু যার জন্য কে এই ব্যক্তি শাহজাহান? শেখ শাহজাহান হলেন সন্দেশখালি ১-ব্লকের তৃণমূল সভাপতি। জেলা পরিষদের মত্‍স্য কর্মাধ্যক্ষ হলেন তিনি। অর্থাত্‍ শাহজাহান নির্বাচিত জন প্রতিনিধিও বটে।

এলাকার অনেকে বলেন শেখ শাহজাহান এপার বাংলার লোকই নন। তিনি অনুপ্রবেশকারী। ওপার বাংলা থেকে এসেছেন। বামফ্রন্ট জমানার শেষ দিকে স্থানীয় বিধায়ক অনন্ত রায়ের অত্যন্ত আস্থাভাজন হয়ে উঠেছিলেন এই শেখ। তাঁর বিরুদ্ধে কাঠ ও গরু পাচারের অভিযোগ রয়েছে। সেই সঙ্গে মানুষ পাচারের অভিযোগও রয়েছে শাহজাহানের বিরুদ্ধে।

সূত্রের খবর, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক তথা বালুই শাহজাহানকে নিয়ে এসেছিলেন জোড়াফুলে। তার পর তাঁর বদান্যতায় সাংগঠনিক পদ পান শাহজাহান। ২০১৯ এর লোকসভা ভোটে নুসরত জাহানকে সন্দেশখালিতে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল। সংখ্যালঘু ভোট একত্র করে নুসরতকে জেতানোর ক্ষেত্রে একটা বড় ভূমিকা ছিল তাঁর। তার পুরস্কারও জোটে। পঞ্চায়েত ভোটে তৃণমূল প্রার্থী করে শেখ শাহজাহানকে। জেলা পরিষদে জিতে কর্মাধ্যক্ষ হন তিনি।

ইডির দাবি, রেশন দুর্নীতি কাণ্ডে বড় ভূমিকা রয়েছে শাহজাহানের। এই সূত্রেই তাঁর বাড়িতে শুক্রবার তল্লাশি চালাতে যান ইডির আধিকারিকরা। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে রেশন দুর্নীতির তদন্তে নেমেছে ইডি। তদন্তকারীরা আক্রান্ত হওয়ার পর শাহজাহানের বিরুদ্ধে কড়া নির্দেশ দিতে পারে আদালত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *