জাতীয় বার্তাপাঁচমিশেলিমহানগর বার্তারাজ্য বার্তা

ফিরে দেখা সাল ২০২৩, ভালো মন্দ মিশিয়ে কেটে গেল এক বছর

নিউজ ডেস্ক: সুখ-দুঃখ ভালো-মন্দ মিশিয়ে কেটে গেল গোটা একটা বছর। কেটে যাওয়া এই বছর আমাদের যেমন উপহার দিয়েছে ভালো কিছু মুহূর্তের তেমনই সাক্ষী করে রেখেছে অনেক বেদনাদায়ক ঘটনার।

২০২৩ সালের সবচেয়ে বেশি বেদনাদায়ক ঘটনা ছিল করমন্ডল এক্সপ্রেস দুর্ঘটনা। ট্র্যাকের উপর ট্র্যাক উঠে ট্রেনের সঙ্গে ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে লাশের পাহাড় দেখেছিল বাহানাগা স্টেশন। দিনরাত স্টেশনে যাত্রীদের কোলাহল নিমেষে বদলে গিয়েছিল শ্মশানের নিস্তব্ধতায়। চার্জশিটে সিবিআই উল্লেখ করে ৩ রেলকর্মীর। বলা হয়, যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, কর্মীদের ভুলেই ঘটেছে এত বড় দুর্ঘটনা। এমন হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনার ক্ষত ভোলাতে পারে না সময়ের প্রলেপও। তবু বাস্তবের দাবিতে ফের এই পথে শুরু হয় স্বাভাবিক রেল চলাচল। বাহানাগা স্টেশনের কাছাকাছি এলে আরও সাবধানী হন চালক। আর যাঁর তেমন কোন আছে, সে যাত্রী রাতের অন্ধকারে শুনতে পান অতৃপ্ত আত্মাদের কান্না। অসময়ে জীবন ছেড়ে চলে যাওয়ার হাহাকার।

রেল দুর্ঘটনার কথা পরে যেটা মাথায় আসে তা হল
রেল স্টেশনের জলের ট্যাঙ্কও যে প্রাণঘাতী হতে পারে, কেউ তো দুঃস্বপ্নেও ভাবেনি। কিন্তু বাস্তব তো কল্পনার চেয়ে অনেক কঠিন। তাই বছরের শেষ মাসে রাজ্যবাসীর সামনে এসে দাঁড়াল তেমনই এক রূঢ় বাস্তবিক ঘটনা। বর্ধমান (Burdwan) স্টেশনে জলের ট্যাঙ্ক ভেঙে পড়ে মৃত্যু হলো চারজনের। ব্রিটিশ আমলে তৈরি জলের ট্যাঙ্ক গুলোর ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়াকে এই দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। কিন্তু তার দায়ই বা কার?

তারপরেই যে ঘটনা আমাদের নাড়া দিয়েছিল তা হল বাজি কারখানার বিস্ফোরণ। ভয়াবহ সেই বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছিল গোটা রাজ্য। অভিযোগ উঠেছিল বাজির আড়ালে এসব কারখানায় তৈরি হয় বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র। চলতি বছর উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুর ও পূর্ব মেদিনীপুরের এগরার দুই বাজি কারখানায় সেই বিস্ফোরণেই মৃত্যু হয়েছে মোট ২১ জনের।

২০২৩ সালটা বেশ কয়েকটি বড়সড়ো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ধাক্কা সামলেছে কিছুটা হয়তো ঘটেছে ভারতবর্ষে কিছুটা বিদেশে। তুরস্ক তে ভয়াবহ ভূমিকম্পের প্রাণ হারিয়েছিলেন শতাধিক মানুষ গৃহহীন হাজার হাজার। সাম্প্রতিকতম দুর্যোগের নাম মিগজাউম (Michaung)। মায়ানমারের নামাঙ্কিত এই ঝড়ে দেশের দক্ষিণ প্রান্ত অর্থাৎ অন্ধ্র, তামিলনাড়ুতে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৭ জন। শুধু কি তাই? এই ভরা শীতে ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে তামিলনাড়ুতে রেকর্ড বৃষ্টি হয়েছে। বলা হচ্ছে, ৪৭ বছরের রেকর্ড ভেঙেছে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ। সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল ধ্বংসলীলার ছবি।

আর খেলার দুনিয়ায় সবচেয়ে বড় আশাহত হয়েছিল এই বছর ২০২৩ এর ক্রিকেটপ্রেমী মানুষেরা। গত ১৯ ডিসেম্বর এক যুগ পর ২২ গজের যুদ্ধে বিশ্বসেরা হওয়ার স্বপ্ন যেভাবে ভেঙে খানখান হয়ে গিয়েছিল, সেই বেদনা ভারতবাসী মাত্রই উপলব্ধি করেছেন। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে বিরাট-রোহিতদের ৬ উইকেটে হারিয়ে দিয়েছিল অজি বাহিনী। সেদিন আশা জাগিয়েও শেষপর্যন্ত যেভাবে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করলেন তাঁরা, তা অবধারিতভাবে চোখে জলে এনেছিল ১৪০ কোটি ভারতবাসীর। শুধু কি বিশ্বকাপ হাতছাড়া হওয়ায় আমাদের মন ভেঙেছে? ক্রীড়া দুনিয়ার আনাচে কানাচে তাকালে আরও কত হৃদয় বিদারক ঘটনাই তো ঘটে গিয়েছে বছরভর। তা উপেক্ষা করার উপায় নেই। উচ্চ পদাধিকারীর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার মতো গুরুতর অভিযোগের সুবিচার না পেয়ে রাগে, দুঃখে, হতাশায় নিজেদের কেরিয়ার বিসর্জন দিতে হয়েছে তারকা খেলোয়াড়দের। ২০২৩ সাল এমন ঘটনারও সাক্ষী।

সারাজীবন পড়াশোনা করে যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে শিক্ষক হতে চেয়েছিলেন যাঁরা, নিয়োগের শেষ ধাপে গিয়েও ফিরতে হয়েছে স্রেফ দুর্নীতি নামের অভিশাপের কারণে। ন্যায্য চাকরির দাবিতে হাজার হাজার দিন ধরে পথে বসে থেকেও যখন সুরাহা হচ্ছে না, তখন রাগে, ক্ষোভে নিজেদের সৌন্দর্য বিসর্জন দিয়েছেন SLST চাকরিপ্রার্থী। প্রকাশ্য রাস্তায় নিজের কেশ বিসর্জন দিয়েছেন তিনি। দীর্ঘ কেশরাশি কেটে সম্পূর্ণ নেড়া হয়েছেন তিনি। তাঁর সেই ছবি দেখে কেঁপে উঠেছিল সকল মানুষের মন।

হাসি-কান্না, হর্ষ-বিষাদের তরঙ্গেই প্রবাহিত জীবন। এ জীবনের আনন্দ যেমন সাদরে গ্রহণীয়, বেদনাকেও করে তুলতে হয় সহনীয়। তবেই তো জীবনবৃত্তের নানা স্বাদ মেলে, মেলে শিক্ষাও। ঝড়বৃষ্টির পর যেমন ঝলমলে রোদ্দুর, তেমন অশ্রুপাত থামলে তবেই হাস্যমুখ। ধ্বংসের কঠিন স্তূপের উপর গড়ে ওঠে সৃষ্টির ভিত। সেই সৃষ্টির ভীত যেন আরো মজবুত হয় এই কামনাই করেই আমরা আগামী ২০২৪ সালকে আমন্ত্রণ জানাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *