পাঁচমিশেলিমহানগর বার্তারাজ্য বার্তা

রাখি পূর্ণিমার উৎসবে মেতে উঠলো ঝুলন যাত্রা

নিউজ ডেস্ক: ঝুলন যাত্রা হল রাধা-কৃষ্ণের প্রেমের উত্‍সব। রাখি পূর্ণিমার পাঁচ দিন আগে থেকে শুরু হয় ঝুলন যাত্রা।

শ্রাবণ মাসের একাদশীর দিন থেকে শুরু হয় এই উৎসব। এই বছর ২৭ অগাস্ট রবিবার থেকে শুরু হয়েছে ঝুলন যাত্রা উৎসব। এদিন থেকে শ্রাবণী পূর্ণিমা অর্থাত্‍ রাখি পূর্ণিমা অব্দি চলবে এই উৎসব। বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ঝুলন উত্‍সব। দোলযাত্রার পর এই ঝুলনই হল বৈষ্ণবদের কাছে অন্যতম উত্‍সব। । রাখি পূর্ণিমার মাধ্যমে ঝুলন যাত্রার সমাপ্তি ঘটে।

মথুরা-বৃন্দাবনের মতোই বাংলার ঝুলন উৎসবের ঐতিহ্য সুপ্রাচীন। শাস্ত্রমতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁর ভক্ত অভক্ত নির্বিশেষে সকলকে অনুগ্রহ করবার জন্য গোলকধাম থেকে ভূলোকে এসে লীলা করেন। ঝুলন শব্দের অর্থ দোলনা। এই সময় ভক্তরা রাধাকৃষ্ণকে ফুল দিয়ে সুন্দর করে সাজানো দোলনায় বসিয়ে পুজো করেন।

শাস্ত্রে শ্রীকৃষ্ণের মোট বারোটি যাত্রার কথা উল্লেখ আছে। এর মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ হল – রথযাত্রা, রাসযাত্রা, দোলযাত্রা, স্নানযাত্রা ও ঝুলনযাত্রা। মনে করা হয় যে বৃন্দাবনে রাধা-কৃষ্ণর প্রেমলীলাকে কেন্দ্র করে দ্বাপরযুগে এই ঝুলন উৎসবের সূচনা হয়েছিল। ঝুলনেও দেখা যায় নানা আচার অনুষ্ঠান ও সাবেক প্রথা। এই উৎসব হয় মূলত বনেদিবাড়ি এবং মঠ-মন্দিরে। রাধাকৃষ্ণের যুগল বিগ্রহ দোলনায় বসিয়ে হরেক আচার অনুষ্ঠান পালিত হয় এই সময়।

এর পাশাপাশি এই উত্‍সবের সঙ্গে জড়িয়ে আছে সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক ঐহিত্য। ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের সঙ্গেই ছোটদের ঝুলন সাজানোর আকর্ষণও কিছু কম নয়। নানা ধরনের মাটির পুতুল, কাঠের দোলনা আর গাছপালা দিয়ে ঝুলন সাজানো হয়ে থাকে। কোথাও কোথাও ঝুলন উপলক্ষে চলে নামসংকীর্তন। এই সময় প্রতি দিন ২৫-৩০ রকমের ফলের নৈবেদ্য, লুচি, সুজি নিবেদন করা হয় রাধা-কৃষ্ণকে।

ঠিক একইভাবে শ্রীরামপুর, বটতলা , জি, টি রোডের শ্রী শ্রী দ্বারাকোনাথের মন্দিরে ঝুলনযাত্রা অনুষ্ঠানে একটি সুন্দর আসরের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। সেই অনুষ্ঠানে যারা কণ্ঠে গান শোনার জন্য মানুষের ভীড় হয়েছিল। তিনি হলেন অজন্তা সরকার। সকলে মন্দিরে এসে শ্রী কৃষ্ণের দর্শনের পর যারা গান শুনে মুগ্ধ হচ্ছিলেন তিনি। একের পর এক তাঁর কণ্ঠে ভগবান শ্রী কৃষ্ণের গান আবহকে আরও সুন্দর করে তুলেছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *