খেলার বার্তা

রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের প্রেসিডেন্ট মহারাজ শ্রীমৎ স্বামী স্মরণানন্দজির অমৃত লোক যাত্রা

নিউজ ডেস্ক:রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের মহারাজ স্বামী স্মরণানন্দ মঙ্গলবার সন্ধেয় না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন। তিনি ছিলেন মিশনের ১৬ তম মহারাজ। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর। তাঁর মৃত্যুতে মিশনের তরফে গভীর শোকপ্রকাশ করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন স্বামী স্মরণানন্দ। ভর্তি করা হয়েছিল হাসপাতালে। মঙ্গলবার রাত ৮টা ১৪ মিনিটে সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। মহারাজের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে মঠ ও মিশনে ভক্তদের মধ্যে।

রামকৃষ্ণ মিশন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে ষোড়োশ মহারাজের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন স্বামী স্মরণানন্দ। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে তিনি বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। মহারাজকে দেখে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়।

মঠ সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯২৯ সালে তামিলনাড়ুর তাল্লাভুর জেলার আন্দামি নামক গ্রামে জন্ম হয় শ্রীমৎ স্বামী স্মরণানন্দের। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ছিলেন খুব মেধাবী। রামকৃষ্ণ মিশনের মুম্বই শাখার সাথে তাঁর যোগসূত্র তৈরি হয়, যখন তিনি ২০ বছরের তরতাজা তরুণ। এই যোগাযোগ তাঁকে সন্ন্যাসের পথে নিয়ে চলে।

অবশেষে ১৯৫২ সালে, মাত্র ২২ বছর বয়সে তিনি মুম্বই আশ্রমে যোগ দেন। এরপর ১৯৫৬ সালে সঙ্ঘের সপ্তম অধ্যক্ষ শঙ্করানন্দজীর কাছে ব্রহ্মচর্য ব্রতে দীক্ষিত হন এবং ১৯৬০ সালে সন্ন্যাস লাভ করেন। ১৯৫৮ সালে তিনি মুম্বই আশ্রম থেকে অদ্বৈত আশ্রমের কলকাতা শাখায় আসেন। ১৯৭৬ সালে সারদাপীঠের সম্পাদকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। দীর্ঘ ১৫ বছর সেখানে থাকাকালীন বিভিন্ন সেবামূলক কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন তিনি।

১৯৭৮ সালের বন্যায় সহ সন্ন্যাসীদের সাথে তাঁর সেবা কাজ এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। ১৯৯১ সালের ডিসেম্বরে তিনি চেন্নাই রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ হন। তারপর ২০০৭ সালে রামকৃষ্ণ সঙ্ঘের সহাধ্যক্ষ নির্বাচিত হন। শ্রীমৎ স্বামী আত্মস্থানন্দজীর মহাপ্রয়াণের পর থেকে সংঘের অধ্যক্ষের পদে আসীন হয়েছিলেন স্বামী স্মরণানন্দ।

মঙ্গলবার রাত ৮টা ১৪ মিনিটে অগণিত ভক্ত ও শিষ্যদেরকে শোকসাগরে ভাসিয়ে শরীর ত্যাগ করেন এই মহাপ্রাণ সন্ন্যাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *